বয়াত সম্পর্কে কোরআন হাদিসের দলিল

মাশায়েখে তরিকত এবং ওলামায়ে হাকিকত তথা পীর মোর্শেদ ওলি আউলিয়াদের সোহবত ওয়াজিব । কারন তারাই হলেন ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া ।

উল্লেখ্য যে, সৎকাজের অঙ্গিকার করতে গিয়ে তাদের হাতে বয়াত হওয়া অতীত হতে চলে আসা সুপরিচিত সুন্নাত । যার উপর সমস্ত হক্কানী আলেমগণ একমত ও সর্বসম্মত (খোতবায়ে সালেহিয়া, পৃঃ ১৫০)

নিশ্চয় যারা আপনার হাতে বয়াত হয়, তারা আইনত মহান আল্লাহর হাতে বয়াত হয়ে যায় । তাদের হাতের উপর রয়েছে মহান আল্লাহর হাত । উবাদা বইন ছামেত (রাঃ) বর্ননা করেন একদিন নবীজী তার আশেপাশে বসা সাহাবীদের লক্ষ করে বললেন, তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বয়াত গ্রহণ কর যে, তোমরা কোনকিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করবে না, চুরি করবে না, সন্তানদের হত্যা করবে না । জেনে বুঝে কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দেবেনা । কোন ভাল কাজের ক্ষেত্রে অবাধ্যতা করবে না । তোমাদের যে ব্যক্তি এ অঙ্গীকার পূর্ন করবে তার প্রতিদান আল্লাহর উপর বর্তাবে । আর যদি কেউ কোন পাপ করে এবং দুনিয়ায় তার শাস্তি হয়ে যায় , তবে তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত এখানেই হয়ে যাবে । আর কেউ যদি কোন পাপ করে এবং আল্লাহ তার গোপন রাখেন, তবে তা আল্লাহর কাছে ন্যস্ত, তিনি ইচ্ছা করলে মাফও করতে পারেন বা ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন । বর্ননাকারী ছাহাবী বলেন- তখন আমরা এই বিষয়গুলোর উপর বয়াত গ্রহণ করি (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত)

আল্লামা শেরানী (রাঃ) আনোয়ারে কুদুসিয়া কেতাবে বলেন-“বাতেনী এলেম প্রয়োজন মত শিখা করা ফরজ । যেমন জাহেরি এলেম শিক্ষা করা ফরজ । জাহেরি এলেম শিক্ষার জন্য যেমন ওস্তাদের দরকার হয়, তেমনি বাতেনি এলেমের শিক্ষার জন্য মোর্শেদ বা পীরে কামেল প্রয়োজন হয় ।

আল্লাহর পথের যাত্রীদের সঠিক পথ নির্দেশের জন্য নিঃসন্দেহে একজন শায়খ বা মোর্শেদ  কামেল পীরকে গ্রহণ করা আবশ্যক (এহ্‌ইয়াউল উলূমুদ্দীন পৃঃ ১৪৯)

এবাদতকারীর এবাদত কবুল হয়না যে পর্যন্ত সে আল্লাহর অলির প্রতি মুহাব্বাত না রাখে । কারন ওলি আল্লাহকে মোহাব্বাত করা অর্থ আল্লাহকে মুহাব্বাত করা । (আল মুকাদ্দামতুল আব্বা পৃঃ ১২৫, ইসলামে তাসাউফ প্রন্থ পৃঃ ৪০)

আল্লাহর তাঁবেদারি কর এবং রাসূলের তাঁবেদারি কর এবং উলুল আমরের তাঁবেদারি কর । উলিল আমর হল মোরশেদ, শায়খ, ন্যায়পরায়ণ শাসক, মোজতাহেদ আলেমগনের হুকুম মেনে চলা ওয়াজিব । (তাফসীরে কবির সূরা নেছা ৫৯ আয়াতের তাফসীর, ৩য় খন্ড ২৫০ পৃঃ)

মিশকাত শরীফ কিতাবুল ইমারাতের ১ম খন্দে আছে “ওয়া মান মাতা ওয়া লাইছা ফি উনিকিহি বায়াতুন মাত । মাইতাতুন জাহেলিয়াহ”
অর্থঃ যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার গলে  বয়াতের বন্ধন রইলনা সে অজ্ঞতায় মৃত্যুবরন করল ।
এখানে বয়াত বলতে তাকালীদ ইমামের বয়াত এবং অলি আউলিয়া ও মোর্শেদের হাতে বলতে তাক্লীদ ইমামের বয়াত এবং ওলি আউলিয়া ও মোর্শদের হাতে বয়াত গ্রহণ উভয় বয়াতকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে । (জা’আল হাক্কঃ ৩৭)

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s